ঈশ্বরদীর জয়নগরে চালের বাজার এখনও অস্থিতিশীল

0
8

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম ঈশ্বরদীর জয়নগর চাল মোকামে দামের অস্থিরতা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। চালের বাজার অস্থির থাকায় খুচরা ক্রেতাদের নাভিশ্বাস বেড়েই চলেছে। রাজধানীর বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে ঈশ্বরদীর মোকামেও। ফলে এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।

ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে চাল ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পরও এখানে ইতিবাচক কোনো সুফল আসেনি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই মোকামে চালের দাম বেড়েছে বস্তা প্রতি (৮৪ কেজি) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। চালের দাম বাড়ার কারণে ঈশ্বরদী মোকাম ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে। এক সপ্তাহ আগে যে চাল ৩৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা বুধবার ৪৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই মোকামে চালের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকায় ঈশ্বরদীর বাইরের ব্যবসায়ীরা চাল কিনতে আসছে না বলে মোকাম সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে চালের দাম বৃদ্ধি হওয়াতে খুচরা ক্রেতাদের নাভিশ্বাস বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকারের শক্ত নজরদারির অভাবেই চালের বাজার চড়া।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর জয়নগর মোকামে গত এক সপ্তাহ থেকে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখি। এই মোকামে মিনিকেট চাল প্রতি বস্তা (৮৪ কেজি) চার হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগে মিনিকেট চালের দাম ছিল ৩৪শ থেকে ৩৪শ ৫০ টাকা। এই মোকামে মোটা চাল বিআর-২৮ এক সপ্তাহ আগে ৩৩শ ৫০ টাকা বর্তমানে ৪ হাজার ২০ টাকা, বিআর-২৯ এক সপ্তাহ আগে ৩১শ টাকা হলেও বর্তমানে ৩৭০০ টাকা, বাঁশমতি এক সপ্তাহ আগে ৪৪শ টাকা কিন্তু বর্তমানে প্রতি বস্তা ৫১শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য চালের দামও বেড়েছে বস্তা প্রতি ৪শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা জানান, তারা বিভিন্ন হাট বাজার ও মোকামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে এনে এখানে চাল তৈরি করেন। ঈশ্বরদীতে চাল উৎপাদনের এ রকম ৬০০ ধানের চাতাল রয়েছে। এসব চাতালে ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। এখান থেকে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ ২০ জেলায় নিয়মিত চাল পাঠানো হয়। এসব জেলার ব্যাপারী ও মহাজনরা এসেও এখান থেকে পাইকারি দামে চাল কেনেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরবঙ্গে মোটা চালের বৃহৎ মোকাম ঈশ্বরদীর জয়নগরে বর্তমানে চালের বাজার অস্থিতিশীল। মোকামে চালের দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে প্রকার ভেদে চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।

নিম্নবিত্তরা বলছেন, আমরা দিন আনি, দিন খাই। প্রতিদিন এভাবে চালের দাম বৃদ্ধি হলেও আমাদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

জয়নগরের চাল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাদশা বলেন, বর্তমানে মোকামে ধানের দাম তুলনামুলক অনেক বেশি। এখানকার ব্যবসায়ীরা উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন ধানের মোকাম থেকে বেশি দামে ধান কিনছেন। মোকামে ১৩৫০ টাকা দরে ৩৭.৫০ কেজি (বাংলা এক মণ) ধান কিনতে হচ্ছে। বাজারে এলসির চাল থাকার পরেও চালের দাম বেড়েছে। কারণ ভারত এলসির চাউলের দামও অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মজিবর রহমান মোল্লা জানান, বর্তমান মৌসুমে ধানের ফলন কম এবং কিছু কিছু এলাকায় বন্যায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অটোমিল মালিকেরা চড়া দামে ধান কেনার কারণে ও মোকামে ধানের প্রচুর চাহিদা থাকায় দাম বেড়ে গেছে। অটোমিলের কারণে ঈশ্বরদী উপজেলার ৮০ ভাগ হাসকিন মিলের চাতাল ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, চালের দাম বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে বর্তমানে এলসির চাল কম দামে কিনে এনে আমদানিকারকরা সেই চালের মূল্যও বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে মোকামে ধান নেই অপরদিকে এলসির চালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার ক্রমান্বয়ে অস্থির হচ্ছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম জানান, হাওর-বিল তলিয়ে যাওয়ার কারণে বেশ কিছু ধানের মোকামে ধান নেই এবং ধানের ফলন তুলনামূলক অনেক কম হয়েছে। এরপরও আমাদের দেশে বর্তমানে খাদ্যের কোনো অভাব নেই।