পাবনা-ঢালারচর রেললাইন নির্মাণে ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ

কাজের গতিও মন্থর ব্যয় বাড়তে পারে আরও একশ’ কোটি

0
60

বারবার পিছিয়ে পড়ছে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণের কাজ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত ঈশ্বরদী (মাঝগ্রাম)-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের পর পার হয়ে গেছে আরও একটি বছর। কিন্তু এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৬৫ শতাংশ। প্রকল্পটির ব্যয় বরাদ্দও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হতে চলেছে। তবে প্রকল্পের পরিচালক সুবক্তগীন দাবি করেছেন পাবনা পর্যন্ত কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, উদ্বোধন হবে যেকোনো সময়। সরেজমিন দেখা গেছে- মাঝগ্রাম, দাশুড়িয়া, টেবুনিয়া এবং পাবনা স্টেশনের শেড নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। রং করা হচ্ছে শেডে। স্টেশনে রেললাইন বসানো হয়েছে, সিগন্যাল ব্যবস্থা সংযোজনের কাজ চলছে। তারপর ডিসেম্বরে পাবনা অভিমুখে ট্রেনে মানুষ যাতায়াত করবে। মাঝগ্রাম, দাশুড়িয়া, টেবুনিয়া ও পাবনায় যাত্রীরা ওঠানামা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মোহাম্মদ সবুক্তগীন জানান, প্রকল্পের প্রথম ফেজের কাজ ৮০ ভাগ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ফেজে রয়েছে মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত রেলপথ। দ্বিতীয় ফেজে আছে পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত রেলপথ। এই ফেজে এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ ভাগ। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ৫৪ কিলোমিটার রেলপথের দ্বিতীয় ফেজের কাজ শেষ হওয়ার সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হলেও তা আগামী বছরের ডিসেম্বরেও শেষ হবে কিনা সন্দেহ। বহু প্রতীক্ষিত এ প্রকল্পটির কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে ঈশ্বরদীর অদূরে মাঝগ্রাম স্টেশন থেকে পাবনা পর্যন্ত রেলপথ চালু করার লক্ষ্য নিয়ে চলছে। এজন্য প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দও বেড়ে গেছে। বর্তমানে এ ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২৯ কোটি টাকা। প্রথমে বরাদ্দ ছিল ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এ ব্যয় আরও প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম ফেজের কাজ ৮০ ভাগ শেষ হলেও দ্বিতীয় ফেজের কাজের অগ্রগতি সীমিত। মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত ২৫ কিমি. রেলপথ ও ৪টি স্টেশন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরে যাত্রী চলাচলের জন্য ট্রেন চলবে। ইতিমধ্যে দাশুড়িয়া, টেবুনিয়া ও পাবনায় স্টেশন নির্মাণসহ রেললাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদীর অদূরে মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত ৩৬টি ছোট ও দুটি বড় ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৬টি ছোট ও ৯টি বড় ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রথম দফায় ১৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট, রেললাইন স্থাপন, রেলক্রসিং গেট ও পাবনা পর্যন্ত ৪টি স্টেশন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, এখন ফিনিশিং কাজ চলছে। মাঝগ্রাম-ঢালারচর ভায়া পাবনা রেলপথের কাজ ২০১০ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়। এর আগে ওই বছরেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি পাস হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রথমে ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের এক কর্মকর্তা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ব্যয় বরাদ্দ আরও বেড়েছে। আরও একশ’ কোটি টাকা ব্যয় বাড়লেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় মাঝগ্রাম রেলস্টেশন থেকে পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার রেললাইন ও ১১টি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রথম দফায় শুধু পাবনা পর্যন্ত কাজ শেষ করতেই নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। পাবনা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল ডিসেম্বরে শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ ব্যাপারে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ আসাদুল হক হলেন, এ প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প, হাজারও মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ইতিমধ্যে পাবনা পর্যন্ত ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।